কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতকে পদোন্নতি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যেসব কাজের বিপরীতে বিল দেওয়া হয়েছে, তার কয়েকটির কাজ এখনো শেষ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পদোন্নতি দেওয়ার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিকে দুর্বল করছে। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানায়, কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের অভিযোগে মো. হাসান শওকতের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত চলমান থাকলেও সম্প্রতি তাকে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকা মেট্রোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইইডির নথিপত্র অনুযায়ী, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার পশ্চিম ইউসুফ উচ্চ বিদ্যালয়ে কোনো কাজ না করেই ঠিকাদারকে ১০ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়। একইভাবে উত্তরখান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ লাখ টাকা এবং দাশেরকান্দি দারুচ্ছুন্নাহ আলীম মাদ্রাসার কাজে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম বিল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সময় হাসান শত্তকত ঢাকা মেট্রোর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
এসব অভিযোগ সর্ম্পকে জানতে চাইলে সব অস্বীকার করেন হাসান শওকত।
ইডির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অধিদপ্তরে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগে খুব কম ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান শাস্তি হয়। অনেক সময় বদলিকেই শাস্তি হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে তা ‘প্রাইজ পোস্টিং’-এ পরিণত হয়। এতে অনিয়মে জড়িতদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি, দরপত্র আহ্বান এবং নির্মাণকাজ তদারকিও করে সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা খাতের বড় বাজেটের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে অনিয়মের ঝুঁকি আরও বাড়বে। বিশেষ করে তদন্তাধীন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।



