সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক–এর খালাতো ভাই মো. ইউসুফ আলীকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে স্থায়ীভাবে পদোন্নতি দিতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে একটানা ১০ বছরের বেশি সময় ময়মনসিংহ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ দখলে রাখেন ইউসুফ আলী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে পদোন্নতি পেয়ে সিলেট বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পান ইউসুফ আলী। বর্তমানে তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে স্থায়ী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের সময় ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প—বিশেষ করে আইসিটি, সরকারি স্কুল, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ও আনন্দমোহন কলেজে সংশ্লিষ্ট কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একাধিক পরিদর্শনে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের প্রমাণও পেয়েছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা—এমন দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে শুধুমাত্র সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ভাই হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইইডি সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনের সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, সংস্কার এবং আসবাব সরবরাহ করে। এ ছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও আইসিটি ল্যাব স্থাপন, ইন্টারনেট সংযোগ, আইসিটি সুবিধা দেওয়ার কাজও করে থাকে অধিদপ্তরটি।
সূত্র আরও বলছে, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের ভাই হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার প্রভার খাটিয়ে ইউসুফ আলী ময়মনসিংহ জেলায় একটানা ১০ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। পরে গত বছরে শুধুমাত্র চলতি দায়িত্বে পদোন্নতির কারণে তাকে সিলেট বিভাগে তত্ত্বাবধায়াক প্রকৌশলী পদে পদায়ন করা হয়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকৌশলী বলেন, অন্তবর্তী সরকারে সময়ে মূলত জামায়াতে ইসলামীর তদবিরে তাকে পদোন্নতি দিতে বাধ্য হয় সরকার। কারণ এক সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্যানেলে হল কমিটিতে নির্বাচন করেছিলেন ইউসূফ আলী।
তারা আরও বলছেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সাবেক কৃষিমন্ত্রীর ভাই এর পরিচয়ে পুরোপুরি ভোল পাল্টে ফেলেন তিনি। এছাড়া অদক্ষতার কারণে একাধিক শিক্ষা সচিব তাকে ভৎসনা করলেও কেউই তাকে বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এর কারণ হিসেবে বারবার উঠে এসেছে সাবেক কৃষিমন্ত্রীর ক্ষমতার প্রভাব।
তারা আরও বলছেন, তার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ জেলায় দায়িত্বপালনকালে বেশ কিছু দরপত্রে অনিয়ম এবং অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগও রয়েছে। যা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে। এজন্য দ্রুত সুষ্ঠ তদন্ত প্রয়োজন।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও এসএমএস করা হলেও সাড়া দেননি ইউসুফ আলী।



