১৮ জুলাই ২০২৬ , ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ 

শিক্ষা

 ফের অস্থিরতা

ইইডিতে ওএসডি হওয়া বিতর্কিত তিন কর্মকর্তা আবার সক্রিয়! 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ইইডিতে ওএসডি হওয়া বিতর্কিত তিন কর্মকর্তা আবার সক্রিয়! 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)-এ আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হওয়া তিন কর্মকর্তার পুনরায় সক্রিয় হওয়াকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে, ২৫ আগস্ট ইইডির জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রায়হান বাদশাকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তাকে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইইডির বিভিন্ন কার্যালয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তাকে ওএসডি করা হয়। একই সঙ্গে ওএসডি হওয়া অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন—তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আফরোজা বেগম এবং সমীর কুমার রজক দাস।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, পুরোনো ভবনের সম্প্রসারণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, আইসিটি ল্যাব স্থাপন এবং ইন্টারনেটসহ প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করে থাকে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই তিন কর্মকর্তা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা সার্কেল ও প্রধান কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই সময়ের সুবিধাভোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

এছাড়া মো. রায়হান বাদশা দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে কর্মরত ছিলেন। ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্তও হন। পরে সাবেক এক চিফ হুইপের সুপারিশে তাকে ঢাকা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয়। ওই পদে থেকে তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে ঢাকাসহ ১৭ জেলার বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ওএসডি হওয়ার পরও মো. রায়হান বাদশা পুনরায় প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পেতে তদবির চালাচ্ছেন। এ জন্য তিনি বর্তমান সরকারের একাধিক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকৌশলী জানান, ইইডির কয়েকজন প্রকৌশলীর উদ্যোগে গঠিত ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’-এর সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সংগঠনটির গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।