০৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ২৩ পৌষ ১৪৩২ 

বিশেষ

মাউশির ডিজি নিয়োগে তেলেসমাতি কান্ড ?

বাংলা ওয়াচ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৪, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

মাউশির ডিজি নিয়োগে তেলেসমাতি কান্ড ?

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কিছু দিন পর সাংবাদিক সম্মেলনে কোন একটি পদে বদলীর জন্য তাকে এক কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবের কথা ফাঁস করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে অন্য কোন মন্ত্রনালয়ের  একজন অধিদপ্তর প্রধান তাকে ঐ ঘুষের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ঘুষের প্রস্তাবকারী বা পদায়ন পেতে আগ্রহী ব্যক্তির নাম বা কাংখিত পদের নাম তিনি উল্লেখ করেন নাই সাংবাদিক সম্মেলনে। এমনকি ঘুষ প্রস্তাবকারি ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্হা নেননি শিক্ষা উপদেষ্টা।

ইতিমধ্যেই তার ঐ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মিডিয়ায় আলোচনা শুরুর মাঝখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রচার হয়। এতে এ নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেননা এ ধরনের নোটিশ দিয়ে কোন সময় মহাপরিচালক নিয়োগের বিধান বা ট্র্যাডিশন কোনটাই নাই। এটা আরও বিতর্কিত হয় এই জন্য যে  নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর ৬৭ জন আবেদন করেন। কোন ক্রাইটেরিয়া ছাড়াই ২০ জনের একটি শর্টলিষ্ট তৈরী করে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়, তার মধ্য থেকে ৮ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। এনএসআই এর রিপোর্ট অনুযায়ী ঐ  ৮ জনই হাসিনা  সরকারের মদদপুষ্ট ছিল এবং তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সাবেক সরকারের বেনিফিশারি ছিলেন এবং  ছাত্রলীগের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। ফলে তাদের কে নিয়োগ দিতে পারেন নাই কারণ পত্র-পত্রিকায় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি হয়, সমালোচনা হয়, মানববন্ধন হয়, প্রেস কনফারেন্স হয়। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত আট জনই ছাত্রলীগের হওয়ায় শিক্ষা  মন্ত্রণালয়ের থমকে দারায়, শিক্ষা উপদেষ্টা বিব্রত হন। ওই আট জনের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে ভয় পেয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন।

এদিকে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শিক্ষার ডিজি পদের জন্য তদবির শুরু করেন এবং কোন একজন ব্যক্তির পক্ষে কোন একটি দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদবির হলে শিক্ষা উপদেষ্টা জানিয়ে দেন যে ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাকে ১ কোটি টাকা ঘুষের অফার করা হয়েছে, বিধায় তাকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে ঘুষ অফারকারী ব্যক্তির নাম পরিচয় জানতে চাইলে শিক্ষা উপদেষ্টা তথ্য মন্ত্রণালয় অধীনস্ত একজন কর্মকর্তার নাম বলেন। তথ্যন্ত্রনালয়ের ঐ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করি এবং তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি।  কথিত ঘুষ অফারকারী ব্যক্তি  শিক্ষার ডিজি পদে পদায়নের জন্য তদবিরের কথা স্বীকার করেন তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘুষ অফারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন - আবরার ভাইয়ের হাই ডায়াবেটিস, তিনি কোন কিছুই মনে রাখতে পারেন না।নাম বিভ্রান্তিতে ভুগেন। তিনি  আরো বলেন - একই সময়ে  অন্য একজন ব্যক্তি আবরার ভাইয়ের কাছে তদবীর নিয়ে আসছিলেন। আবরার ভাই হয়তো সেটা তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন। 

এ বিষয় নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা আবরার সাহেবের মিসেস রিয়া ভাবীর সাথে কথা বললে তিনি জানান যে -"  আমাদের বাসায় আমাদের কোন আত্মীয় ১ কোটি টাকা ঘুষের অফার নিয়ে আসছলো সত্য তবে তা শিক্ষা ক্যাডারের কোন ব্যক্তির জন্য নয় বা শিক্ষা ক্যাডারের কোন পদের জন্য নয়। আবরার সেই ঘুষের অফারকারীকে অপমান করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। "।

পরিতাপের বিষয় যে শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি পদপ্রার্থী   তদবিরকারী ঐ ব্যক্তি দারুণ বিপাকে  পড়েছেন। তিনি আবরার সাহেবের বাসায় যেয়ে এ বিষয়ে কথা বললে আবরার সাহেব ঘুষ অফারকারীর  নাম বিষয়ে ভুল করার বিষয়টি স্বীকার করে  তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু ততদিনে ডিজি প্রার্থী ভদ্রলোক চরমভাবে মানুষিকভাবে ভেঙে পড়েন। কেননা শিক্ষা উপদেষ্টা আবরার সাহেব ঐ ডিজি প্রার্থীর পক্ষে তদবির কারক বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নিকট তাকে দূর্নীতিবাজ ও ঘুষ অফারকারী হিসাবে বর্ননা করেছেন।উপরন্তু আবরার সাহেব নিজেও তাকে ডিজি পদে নিয়োগ দিতে কুন্ঠা বোধ করছেন, কেননা তিনিই তাকে ঘুষ অফারকারী হিসেবে বলছেন, তাকে এখন নিয়োগ দিলে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠে কিনা ? 

সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হওয়া এই কর্মকর্তা কোন অন্যায় না করেও তিনি সাফার করতেছেন এবং শিক্ষা ক্যাডারের সিনিয়রমোষ্ট ও যোগ হওয়া সত্বেও কাংখিত পদায়ন পাচ্ছেন না।